একটি কবিতা সিরিজ —

 



(১)

পূর্ণিমার সন্ধ্যায় মাঝে মাঝে শ্রীজাত' স্যারকে দেখি
চিলেকোঠার ছাদে দূর্বা' ম্যাডামের সালোয়ার শুকোতে
দিচ্ছেন জ্যোৎস্নার রোদ্দুরে।

যতবার শুকোতে দেন ততবারই চুপচুপে
ভিজে যায় জ্যোৎস্নায়।

চাঁদও জানে,
দূর্বা' ম্যাডামের ভিতর
একজন চরকাকাটা বুড়ি আছে

আর শ্রীজাত' স্যার অনেকটা নীল আর্মস্ট্রং।



(২)

নতুন জামাই বাড়িতে এলে পাতে দিতে হয়
কাতলামাছের মুড়ো, শাক, পাঁচভাজা,

পঞ্চব্যাঞ্জনে— পরমান্ন।

জামাই যদি কবি হন, তাহলে পুকুরে জাল ফেলতে হয়।
তারপর সেরা মাছটিকে বের করে আনতে হয় জাল থেকে।
নতুবা শ্বশুরমশাইকে নদী সাঁতরে খুঁজে আনতে হয় ডিমভরা ইলিশটি। মধ্যাহ্নভোজে কবির পাতে তুলে দিতে হয় ঈশ্বরীয় স্বপ্নপদগুলি।

সুবোধবাবু যেবার প্রথম মল্লিকাদির বাপেরবাড়ি গিয়েছিলেন

সেদিন সমস্ত খাল বিল নদী নালা উপচে পড়েছিল
ওঁর কাঁসার বগিথালাটিতে।

— আমি জানি।




(৩)


বহুদিন প্রবাসে থাকতে থাকতে কবিরা বৃক্ষ হয়ে ওঠেন।
শিকড়ে ঘুণ ধরে যায় ধীরে ধীরে। কিন্তু প্রশাখায় তখন
দিগ্বিজয়ের হাতছানি। কোটরে বিষাক্ত সাপেরা।

সন্ধ্যা নামলে অবুঝ কোলাহলে মুখর হয় চারিদিক

যদি দেশে ফেরবার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়,
বৃক্ষ অপেক্ষা করেন, কবে ঈশ্বরীয় হয়ে উঠবেন কবি।

তসলিমা দিদির চোখে মুখে দেখি, বটতলার চারিদিকে
ভেজা পালকে মাঙ্গলিক সুতো বেঁধে মানত রাখছে
পরিযায়ী বকপাখিরা।



(৪)

বইমেলায় তরুণ কবিদের সাথে দেখা হলে ফুল নিয়ে গল্প
করেন তাঁরা। কোন ফুল আশ্বিনে ফোটে, আবার অগ্রহায়ণে
ঝরে যায়। কোন ফুলের ফল মিষ্টি, কোনটা হয় তেঁতো।
ফুলের গন্ধ ছড়াবার পরিসীমা নিয়ে তাঁদের তুমুল বাকবিতণ্ডা। খিদে পেলে কোন ফুল কি খায়, তাই নিয়ে লম্বা ফিরিস্তি তৈরি করেন ওঁরা।

গতবার দেখা হয়েছিল, শাম্ব'র সাথে সুবর্ণকান্তির।
শাম্ব তাঁর রুমালে বেঁধে এনেছিলেন একটি প্রস্ফুটিত কলসপত্রী। ছত্তিসগড়ের বস্তার জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন তিনি। সুবর্ণকান্তি তাঁর ঝোলা থেকে বের করেছিলেন অলীক র‍্যাফ্লেসিয়া।



(পুনশ্চ)

মৃত কবিরা ভেসে ভেসে আসে কবিসম্মেলনে। নগ্ন —


সকলে কবিতা শোনায়, নির্ভুল কবিতা 
যাঁরা ভুলে যাবেন, তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে ইহজগতে,
শাস্তিস্বরূপ। ফিরে আসতে বড় ভয়! ফেরার পথে কান্না।


কারা যেন জংধরা পেরেক বিছিয়ে রেখেছে
ফিরে আসবার রাস্তায়

ফুটে গেলে ধনুষ্টঙ্কার, নির্ঘাত।

এখানে নির্ভার কবিতা পাঠ করা যায় মোহিত পাঠকের সামনে।
সে সুযোগ ওখানে ছিলনা।

মলয় রায়চৌধুরী, সৌভিকবাবু আর অরিত্র(সোম)কে দেখেছি,
নগ্ন হয়ে উঠে আসছেন মঞ্চে।
রোমন্থন করে শোনাচ্ছে স্বরচিত কবিতাগুলি।

ভোরের স্বপ্নে






Comments

আরও পড়ুন

“মহানগর” - ধীমান ব্রহ্মচারী | পর্ব ৩

তৃতীয়— মাস-সংক্রান্ত

“মহানগর” - ধীমান ব্রহ্মচারী | পর্ব ১

“মহানগর” - ধীমান ব্রহ্মচারী | পর্ব ২

জুজুতন্ত্রের সমূহ শ্বাপদ এবং হুজ্জতি

সাম্য রাইয়ান— নির্বাচিত একক সংখ্যা

গুচ্ছ কবিতা —

লিটল ম্যাগাজিন ও ফিনিক্স মিথ