Posts

Showing posts with the label পত্রিকা পরিক্রমা

তিস্তা পাড়ের মেয়েটি— কবিতা সিরিজ

Image
  ( ১) তিস্তা পাড়ের মেয়েটি নিশিদিন পদ্ম ফোটে গো, পাঁকে জল মেয়েটির চোখে জল, বুকে জল, কণ্ঠ চিরে অগাধ জল কলকলিয়ে জল, খলখলিয়ে জল  র ক্ত  ভে জা  জ ল  মেয়েটির বাড়ি ঘরে জল মেয়েটির অথৈ নৌকায় জল মেয়েটির মাংস পিণ্ডে জল মেয়েটির শীতল ব্রহ্মাণ্ডে জল জল মেয়েটির সারস বক্ষে জল, মেয়েটির দেহ - হাঁসে জল মেয়েটির সর্বশান্তে জল, মেয়েটির জঙ্ঘা চিরেও জল কা লি জ ল  বীজ ফোটা আজীবন নিষিদ্ধ জল এই জল          এই জল                এই জলের ভিতর আগুন পাশা  চিরটাকাল শান্ত নির্বাক নির্মানুষ সমীচীন পাখিদের হ্রাসে মেয়েটি হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে গেল তিস্তা পাড়ে— (২) প্রায়শ্চিত্ত  প্রায়শ্চিত্তের ধরন আতব চালের ধান দূরবর্তী বালকের প্রেমে গজিয়ে ওঠা ঘাসের ডগায় জমা বরফ জল আলুথালু অপূর্ব বয়ান  সংসারের আর্য বনের ক্লেশে কে কাকে মিথ্যে বলে ? কে কাদের চোখে চোখ রাখে ...? রাখবে না কেন -- বলবে না কেন ? রাষ্ট্রের মুখে গন্ধ রাষ্ট্রের কাটা ঘা কাটা ঘায়ের ওপর ভিত্তিমাখা প্রলেপ নিস্তার বড় বড় ঘায়ের চারুপথ ছাড়ি...

ঝুলন্ত উইন্ড চাইম...

Image
  Misha Gordin's Photographic Collection ট্রামলাইনের ধার দিয়ে সচেতনভাবে যেতে হয়-- জীবন দিয়ে সচেতন করে দিয়ে গেছেন একজন। ট্রামলাইন ধরে এগোতে এগোতেই হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটা শব্দে সচেতন হয়ে গেলাম। ট্রাম না, হাতে টানা রিকশার ঘন্টি। এভাবে সচেতনতা এসে হঠাৎ কলার ধরলেই কবির মুখ মনে পড়ে যায়। কাব্য না, শুধু কবির মুখ। বাস বা অন্য কোনো যানবাহনের সামনে এসে পড়লে না... শুধু ট্রামের ক্ষেত্রেই। কোনো প্রকার অ্যালগোরিদম হয়ে আছে মাথার ভেতর। অবশ্য, মাঝে মাঝে রেল লাইন পার হওয়ার সময়েও মনে পড়ে। নিয়ম না মেনে প্ল্যাটফর্ম থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে সরাসরি লাইন পার করে যাওয়ার সময়ে। সবাই দুদিক দেখেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে পার হয়। ট্রেন তো ভূত না যে হঠাৎ উদয় হবে! রাণা দা কি সচেতন ছিলেন না সেদিন তাহলে?... অন্য কারো কথা ভাবছিলেন... কবির মতো? আনমনে এগোতে এগোতে কখন রুটি-তরকারির দোকানের ফাঁক দিয়ে ফুটপাথে উঠে যাই, কখন নেমে যাই আবার রাস্তায়-- খেয়াল থাকে না। চেনা পথের একটা নিজস্ব রিপিট-মোড অ্যালগোরিদম থাকে বোধহয়। মাথা নিজের মতো চালিয়ে নেয় পা-দের। মাঝে মাঝে কাঁধে ধাক্কা লাগে। প্রতিটা ধাক্কা যতিচিহ্নের মতো। কিছু যতিচিহ্ন দীর্ঘ হয়। ...

'সারমেয় শাবকদের স্মৃতি' কবি নীলাঞ্জন চক্রবর্তী

Image
  (১) দুটি ভাইবোন দুটি ভাইবোন পিছু পথ ধরে চলে যাচ্ছিল দূরে একটু যে বসতে বলবো সেইটুকু জায়গা ছিলনা আর জায়গা কি সত্যিই ছিলনা? নাকি মুহূর্তের সংশয়তা স্তব্ধ করেছিল আমায় একটু যে জল-মিষ্টি দিতে হতো হায়রে আমার সৌজন্যতাবোধ! নেহাতই কি চক্ষুলজ্জার অভাব? নাকি নিয়তির অসহায়তা দারিদ্রের আঁচলে ঢাকা! দুটি ভাইবোন মুক্তির পথ ধরে চলে গেলো আজ দূরের থেকেও দূরে আমার শুন্য দুটি চোখ আর নিঃস্ব দুটি হাত তাদের শৈশবটুকু ছাড়া আর কিছুই রাখতে পারেনি ধরে... (১৭.০২.২০২৪, দুপুর ৩:২৫ ) (২) বন্ধুরতা পুরনো বন্ধুর সাথে বচসা হওয়া ভালো সমস্ত বিলাপ, প্রলাপ উগরে দেওয়ার পর শান্তিতে খোসা ছাড়িয়ে বাদাম চিবোনো যায় খোশ গল্পে ফের মুখরিত হয় চায়ের প্রতিটি চুমুক জীবন তো সামান্য আজ আর কালের সঞ্চয় তারপর পরশুদিন সমস্ত খরচ শেষে বাড়ি ফেরার পালা সেই অবকাশে একটা দিনের অর্ধ একটি বেলা পুরনো বন্ধুর সাথে বচসা হওয়া ভালো নতুন কিবা পুরনো সমস্ত বন্ধুর সাথেই বচসা চলুক নিরন্তর, অভিমান জমুক পাথর পাথর শীতল মা বাপ তুলে খিস্তি-খেউড় হোক ক্ষতি নেই শুধু সৌজন্যতার আঁধার সৃজিত হলে বন্ধুর অতি পরিচিত ঠিকানাও হয়ে যায় দূর্গম ও বন্ধুর (০৬ মার্...

অবগুণ্ঠন সাহিত্য পত্র ও কিছু কথা— অমিতাভ দাস

Image
  অবগুণ্ঠন এর শুরুটা হঠাৎ করেই হয়েছিল। নিজের ও বন্ধুদের লেখা ছাপা হবে, এইটেই আসল কারণ। আমরা তখন অনেক লিখতাম বটে কিন্তু ছাপার জায়গা ছিল না। সেই '৯৪ '৯৫ '৯৬ সালে এত পত্রিকা কোথায়? আমাদের অঞ্চলে যেসব পত্রিকা ছিল তার সম্পাদকেরা লেখা ছাপা হলে কেউ পাঁচটা, কেউ দশটা পত্রিকা হাতে গছিয়ে দিত। বলত বিক্রি করে টাকা তুলে দিতে হবে। আমরা বিক্রিও করে দিতাম। আত্মীয় পরিজনদের কাছে। কিন্তু এভাবে তো বেশি দিন চলে না। ডাকে লেখা পাঠাতাম। কোথাও ছাপা হত, কোথাও হত না। আমাদের নিজস্ব একটা প্লাটফর্ম দরকার ছিল। যেখানে আমরা আমাদের কথা বলব। অবগুণ্ঠন হল সেই প্লাটফর্ম । ('৯৬ সালের প্রথম সংখ্যা) অবগুণ্ঠনের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল অনাড়ম্বর ভাবেই। '৯৬ সালের কালীপুজোর আগের দিন। প্রেস থেকে পত্রিকা সাইকেলের কেরিয়ারে বেঁধে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলাম দুপুরবেলা। উফ্ সে কী আনন্দ। বিকেলে অশোকনগর থেকে আমার দুই বন্ধু শুভাশিস চক্রবর্তী আর অনির্বাণ দাস এলো। আর যতদূর মনে পড়ছে সৌরভ চাটুজ্যে এসেছিল। খুব গল্প হল। আড্ডা হল। কবিতা পড়া হল আমাদের ছোট্ট গোল ঘরে বসে।            মনে আছে হলুদ রঙের কভার। প্রচ্ছদ ছিল ...

কবিতাপাক্ষিক ও আমি—জ্যোতির্ময় মুখোপাধ্যায়

Image
  দিনটা ছিল ২৪ শে বৈশাখ, ১৪০০ বঙ্গাব্দ (৭ই মে ১৯৯৩)। স্থান, কালিঘাট মিলন সংঘ সভাগৃহ। প্রকাশিত হলো কবিতাপাক্ষিক। প্রকাশ করলেন ফাদার গাঁস্ত রোবের্জ। যদিও প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয় থেকে জানতে পারছি, কবিতাপাক্ষিক প্রকাশ করার কথা ছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। কবিতাপাক্ষিকের পরিকল্পনা, প্রকাশ ও পরবর্তীতে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল। কিন্তু তাঁর বিলম্বজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের আধঘন্টা পরে ৬ টা ৩০ মিনিটে ফাদার গাঁস্ত রোবের্জ কবিতাপাক্ষিকের কপি তুলে দেন প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত, ডাঃ শ্যামলেন্দু মুখোপাধ্যায় ও নীতা দাশগুপ্তকে। কৃষ্ণা বসু পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করেন ফাদার গাঁস্ত রোবের্জ, প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত, পবিত্র মুখোপাধ্যায় ও অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় পরে উপস্থিত হওয়ায় তাঁকে পুষ্পস্তবক দেন প্রভাত চৌধুরী স্বয়ং। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা এবং পত্রিকা সম্পাদনা বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও মতামত ব্যক্ত করেন। কবিতা পাঠ করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, কাননকুমার ভৌমিক, গোবিন্দ ভট্টাচার্য, নমিতা চৌধুরী, সমীরণ...