পিয়াংকী—কবিতা

পোকা সংক্রান্ত  




(১)



কালপুরুষ আকাশ। 
হাত-পা ভেঙে 
পড়ে আছে মাটিতে
নক্ষত্ররা গড়াগড়ি খেতে খেতে
সমতলে,
পোকার মতো হাঁটছে

বৃষ্টি হবে এরপর, 
কাদাগোলা জলে হারিয়ে যাবে 
আমাদের প্রতিবেশী

ড্রয়িং পেপার জুড়ে অবসর। 
শুধু মানুষ ছাড়া কিচ্ছু নেই চারদিকে
মানুষের উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিমে শুধু মানুষের মুখ


জলরঙে পড়ে আছে গতজন্মের মরা মাছি
কোথায় ঘাসফুল, কোথায় এক্সওয়াইজেড রশ্মি 
কোথায় জিনতত্ত্ব

ঝুপ্ করে খসে পড়ল সপ্তর্ষিমণ্ডল - আরও
সাতটি নক্ষত্র
আরও সাতটি পোকা__




(২)



বনজ্যোৎস্নার সমান্তরালে 
দাঁড়িয়ে থাকা রাত জানে - দস্যুর সংজ্ঞা
ঘড়ির কাঁটার উল্টোদিকে ঘোরে যারা
তাদের সকলের মাথায় এখন মুকুট
গায়ে লাল-কাপড়, পোকামাকড় খেয়ে গেছে 
অর্ধেক সুতো

হাঁটু গেড়ে বসা ভক্ত মায়া 
বলতে বোঝে কেবল প্রসাদী-জল


যমুনায় নৌকা উল্টে যায়
খাবি খায় অদৃশ্য আঙুল
কিসের তাড়া? কিসের ছিনতাই?


কোন পথে পড়ে আছে শরণার্থীর রুমাল...




(৩)


এবার একটু বিশ্রাম।
যোগীর চোখে জ্যোতিষ্ক, মৃদু আলো
খিদের আকুতিতে ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে পূর্বপুরুষের ঢেউ
সারেঙ্গীতে ধুলো ঝাড়ার অছিলায় স্পর্শ নিচ্ছ যখন যখন
একটা পোকা এসে কেটে দিচ্ছে তোমার ঠোঁটে লেগে থাকা বাসিভাত


তাহলে করণীয় কী?
উত্তর দিতে অপারগ সকলেই
পোকার দাঁত। ক্রমাগত হয়ে চলা এই শব্দই সারসত্য


সিঁড়ি পেরোলেই,
কোনো না কোনো দরজায় আঁকা আছে ভোর
ঘন ধোঁয়া পেরিয়ে সেখানে ঢুকলে,
শুধু একটা মাদুর...



(৪)


তুমি হাসছ, ভাবছ আড়ালে আছি।
গোচরে যাবতীয়

অথচ 
কোনো এক নির্ভরতায় 
সে আমার বাগানেই প্রত্যহ রেখে যায়

তোমার যত দুঃখের চারা
পরিমাণ মতো জল উত্তাপ আলো
ওরা বাড়ছে -- পুষ্টি সরবরাহ হলে যেমন হয় আর কী!
এখন প্রতিদিন ফুল ফোটে,নতুন কুঁড়ি কচি পাতা


আমি ভোগ বাড়তে বসে তুলসি দিই,
নিবেদন করি অর্ঘ্য
তোমার যন্ত্রণারা যখন জল খেতে আসে...

দু'হাতে সরাই পোকা

একদিন এসো। দেখে যেও।
তোমার পোকারা এখন আমায় মা বলে ডাকে



তুমি না জানলেও সে জানে --
আমি বরাবর কৃষক হতেই চেয়েছি




(৫)


সাঁকোর গায়ে বনজ-লতা । উল্লম্ব আকর্ষ
যারা হেঁটে যাচ্ছে, জানেই না
ঠিক কোন বাঁক থেকে বদলে যাবে ফেরিঘাট

মরামাছের ফ্যালফ্যালে চোখ অথবা 
নিত্যিমাপা কীর্তন -- এ তো সাময়িক উল্লাস


তাচ্ছিল্য থেকে একটা একটা করে
বেছে রাখছে কেউ বিন্নিধান

ঘরের কোণে ইঁদুরের মাটি।
কুয়াশা জমে আছে ভুরুর ওপর
এখন পোকা ধরার মরসুম।

জলের গায়ে আঁচড় দিয়ে 
পালিয়ে গেছে যে চোর
তার জন্য কুলুঙ্গিতে তোলা জ্যান্ত মাছ

যেদিন...

স্মৃতিদোষের গায়ে দানা বাঁধবে জলবসন্ত অথবা শিশমহলের দেওয়ালে ঝুরঝুরে বালি

...চন্দনগন্ধে পবিত্রজলে
তিঁনিই ধুইয়ে দেবেন সমস্ত ঋণাত্মক - যথাসম্ভব

Comments

আরও পড়ুন

তৃতীয়— মাস-সংক্রান্ত

“মহানগর” - ধীমান ব্রহ্মচারী | পর্ব ৩

২৩ | ফেব্রুয়ারি সংখ্যা | ২০২৫

কবিতা গুচ্ছ

জুজুতন্ত্রের সমূহ শ্বাপদ এবং হুজ্জতি

সাম্য রাইয়ান— নির্বাচিত একক সংখ্যা

রঙ্গন রায়

সিনেমা-বিষয়ক নিবন্ধ -- জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

একটি কবিতা সিরিজ —

সৌমিক মৈত্র