মোহাম্মদ নাসির



মোহাম্মদ নাসির'র এক গুচ্ছ কবিতা




(কি)

দেবী সুবর্ণা


ফেরেশতারা একবার দেখেই—
তোমাকে চিনে ফেলবে; তুমি দেবী ছিলে পৃথিবীর বুকে।
সম্ভ্রান্ত মন্দিরের প্রতিমা—
ঈশ্বর তোমার পূজা করেন এলিট ফুলে।
আমি কাঙাল ফড়িং
আমার ধর্মে তুমি নিষিদ্ধ ঘাস। জেগে উঠো মনের শ্মশানে—
আমি গোরস্তানের মালিক; তুমি প্রতিবেশী মেঘ—
কখনো কখনো উড়ে আস বর্ষার কবরে;
আমি খুব সহজেই চিনে ফেলি—
তুমি দেবী— কাব্য পাড়ার ধনী মন্দিরে তুমি থাকো!



(খ)
তুমি এক শব্দের বিশাল উপন্যাস



আমি ছাড়া কেউ জানে না—
তোমাকে অনুবাদ করার ভাষা।
তোমাকে কবিতা ভেবে পড়তে যেয়ে দেখি—
তুমি এক শব্দের বিশাল উপন্যাস!
অন্য কাউকে পড়তে দিব না বলে—
তোমাকে লিখে রাখি গোপন ডায়েরিতে।
তোমার দু’চোখ ভর্তি আলো— জ্বেলে রাখো শব্দের উঠানে
বাক্যের ভেতর তুমি আর আমি ডুবে থাকি বর্ণের আঁধারে।
আমাকে আমি বরাবরই পাথরের ফুল অথবা আগুন মনে করি। আমাকে আগলে রেখে প্রথম পুড়েছে আমার মা। দ্বিতীয়ত তুমি।
তুমি সিগারেটের সতিন হয়ে আঁটকে আছ আঙুলের ফাঁকে।
পুড়ে যাচ্ছ জেনেও নিজেকে নিচ্ছ না ছাড়িয়ে।
বুঝি না— হুদাই এত ভালোবাসো কেনো?



(গ)
বিরহ



তুমি প্রতিটি প্রশ্বাসে ছুড়ে ফেলো আমাকেই
আমি অক্সিজেন হয়ে ফিরে আসতে—
পূনরায় বৃক্ষের কাছে যাই;
পাতার সবুজে চুপিসারে ঢুকে পড়া আলোর মতোই
পূনরায় ঢুকে পড়ি তোমার শরীরে!
তুমি টের পাও—
একটি জোনাকি লাল আলো জ্বালিয়ে—
তোমাকে সিগন্যাল পাঠায়; আমার উপস্থিতি।
তুমি রেগে যাও—
কঠিন প্রশ্বাসে পূনরায় ছুড়ে ফেলো দূরে!
আমার আশ্রয় হয় বৃক্ষের পাতায়!
প্রশ্ন করি গৃহহীন পাখিদের কাছে;
বারবার অক্সিজেন হতে চেয়ে— 
আমি কেনো কার্বনডাইঅক্সাইড হয়ে যাই!



(ঘ)
প্রেম হোক বিনিময়ের একক মাধ্যম


তুমি দিগন্তে দাঁড়িয়ে আছ সূর্যাস্ত দেখবে বোলে
আমি তোমায় দেখব বোলে— মনের আঙুলে তোমার
হাতের আঙুল ধরে হাঁটছি।
তুমি ঢেউয়ে ঢেউয়ে চলে যাচ্ছ ডুবুরির দ্বিগুণ দূরত্বে
আমি সাঁতার না জানা সত্বেও ঝাপিয়ে পড়ছি জলে।
ঝিনুকের কাছে করছি প্রার্থনা— যেনো তোমাকে চুরি না করে।
তোমাকে নক্ষত্র ভেবে যতবার আকাশে বাঁধতে চাচ্ছি স্থায়ী ঘর— তুমি ততবার উল্কা হয়ে খসে পড়ছ জমিনে। ফসলের বিনিময়ে তোমাকে পেয়ে যাচ্ছে কৃষক।
তুমি বিক্রি হচ্ছ বাজারে— তোমাকে কেনার সামর্থ্য না থাকায় আমি ফিরে যাচ্ছি মায়ের গর্ভে— ফিরে যাচ্ছি মুদ্রাবিহীন পৃথিবীর কাছে।
জানি অট্টালিকায় ভালো থাকবে না তুমি— অথচ তোমার শূন্যতায় ফাঁকা পড়ে থাকবে বাবুই পাখির সংসার।
কোথাও তালগাছ দেখলে— তুমি আঁচলে ঢেকে নিও মুখ। তোমাকে মাতাল করতে পারে পাকা তালের ঘ্রাণ। তুমি ঘ্রাণের লোভে একা থেকে যেতে পারো বাবুই পাখির ঘরে। 



(উঃ)
তোমার হাত ফসকে পড়ে যেতে যেতে 


তোমার হাত ফসকে পড়ে যেতে যেতে শূন্যে দাঁড়িয়ে দেখি তুমিও পড়ে যাচ্ছ আমার হাত ফসকে। তৈলাক্ত ইগুর ক্রিম দুজনার হাতে বেঁচে দিয়ে শহর কিনেছে অভিমান। আমি পড়ে যাচ্ছি— ভূমিকম্পে ভেঙেচুরে যাওয়া দালানের মতো— নিঃস্ব; তুমিও পড়ে যাচ্ছ মেঘের আঘাতে মেঘ হতে ঝরে পড়া বৃষ্টির দানার  মতো— স্বচ্ছ। আমার চোখে ফুটে উঠছে সূর্যাস্তের লাল আভা; তোমার চোখে সন্ধ্যা বেলা পথ হারানো পাখি। 

তোমার হাত ফসকে পড়ে যেতে যেতে শেষবারের মতো দেখছি— আমাদের আয়না কীভাবে সরে যাচ্ছে চোখের আড়ালে।







Comments

আরও পড়ুন

একটি কবিতা সিরিজ

বেবী সাউ

জ্যোতির্ময় মুখোপাধ্যায়

প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী

অয়ন হালদার

কবিতা

বাসন্তী প্রেম/পিনাকী বসু