কবিতা সিরিজ —

১
কেট উইন্সলেট নই
যৌবনের সসপ্যান ঠান্ডা হয়ে গেছে
তারও পরে চাঁদ মিথুন লগ্নে এলে
চারকোল হাতে
সাদা ক্যানভাসে কেন ফুটিয়ে তুলিস
নগ্ন অবয়ব
তোর কৃতিত্বে
বন্ধুরা হৈ হৈ করে
তোর ঝেড়ে ফেলা সব কালো
জমে থাকে আমারই নির্ঘুম চোখের নিচে
বন্ধুরা সেকথা জানে? আর তোর বউ?
২
কবিতাতেই বঁড়শি গাঁথা
কবিতা দিয়েই শুশ্রূষা
কতবার ভেবেছি সম্পর্ক রাখব না
সাজবো-গুজবো খুশির স্টেটাস দেব দু-বেলা
একবার স্বামীর দিকে তাকাই
একবার তোর দিকে
একজনের বৌ পেটানোর শখ
অন্যজন অক্সিজেন দেয় শ্বাসকষ্টে
অ্যাকোরিয়ামে রঙিন মাছ
যত্ন করে পোষে।
৩
কবির প্রেমিকা হওয়ার থেকে কি
বউ হওয়া ভালো?
যখন জড়িয়ে ধরিস
বুকে মুখ রাখি
কপালে নামে ঠোঁট
টের পাই
ভেতরে মুক্তো জন্মাচ্ছে
আরেকটু নিবিড় হতে চেয়ে
ঝিনুক মেলে ধরি
সেইসব মুক্তো দু-মলাটের পোশাকে ছৌ নাচে
প্রথম সারির চেয়ারে বসে
কবির বউ হাততালি দেয়
গলায় ঝকঝক করে মুক্তোর মালা
৪
শুনেছি আড়াই প্যাঁচে কারও গলা কেটে ফেললে
তা হত্যা নয়, পাপ তো নয়ই
হালাল, পুণ্য
যতবার কবিতা করিস আমায় নিয়ে
গলায় অসহ্য ব্যথা হয়
বুঝতে পারি না
কে হোস আমার
প্রেমিক! না কি পুণ্যলোভী কসাই!
৫
সন্ধে হচ্ছে বঁধুটিরও
সারাদিনমান ঘর-সংসার-দোকান-বাজার
মেয়েমানুষ কয়লা উনুন
শরীর গলিঘুঁজি খুঁজে এগিয়ে আসে রোগ
ছাপোষা মা বিয়ের আগে বলেছিল
"নিজের চাহিদা সরিয়ে রেখে শ্বশুরঘর আত্মীয়
নিজের চেয়ে না হয় একটু বেশিই ঢালিস"
ঘর আগলানো স্বামী চেয়েছিল
ভীতু মানুষের মতো সৎ সাধারণ গাছ
ভোরবেলা উঠে দুয়োরে জল
আকাশে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস
দিনের বেলা ঠাওর হয় না
অন্ধকারে মিটমিট করে
সারাটাক্ষণ তাকিয়ে থাকা কবির প্রেমিকারা
Comments