কবিতা সিরিজ —
১
এ অন্ধকারে দেখিনি মুখ যারতার কথা শুধু মনে পড়ে
মনে পড়ে, কী করে দেখেছি সাম্প্রতিকের
ঘর; বুনেছে কী করে করুণ আবাস-বাড়ি
ছিল সে অনন্ত শীত, আশ্চর্য প্রয়োগে
খেলে উঠেছিল ফুল, হাঁসেদের পুরোনো ডিম
ফুটে বেরিয়েছে লাল রঙ, নিষ্প্রভ-আলোছায়
দুপুর ফুরিয়ে সন্ধে, সন্ধে ফুরিয়ে এ রাত!
নিঃসঙ্গ গন্ধের মতো তার চোখ
মৃদু কালো চুলে, মা ভাষার পুরোনো হাঁক ডাক
এ অন্ধকারে দেখিনি তার মুখ
শুধু তার কথা মনে পড়ে...
২
ধুঁধুঁল, পুঁইমাচা, খড়ের গাদা
পরিত্যক্ত বাড়িতে সযত্নে লাগানো
লাল হলুদ গাঁদা
আড়বুঝো বকের কথা মনে কি পড়ে
মনে কি পড়ে তোমাদের যৌথ পরিবার
রবিবার ব্যাগ ভরে আনাজ এল হাট থেকে
টালির ফাঁকে ঢুকছে রোদ একফালি
আলু জমিতে ঘুরতে যাওনি কতদিন
কতদিন ছেলের ঘুমন্ত মুখে মদ গন্ধে
এঁকে দাওনি ভালো ভবিষ্যত চুমু
আজ শেষ দুপুরে দেখতে এলে কেমন আছে
গোবর পোড়া ভিটে বাড়ি
তেঁতুলতলার দোকান, পুরোনো বাঁশঝাড়?
সখের বাগানে আগাছা গজিয়েছে
দেখো ---
জলের ধারে পড়ে
কতিপয় নিষ্ক্রান্ত দুপুর
ভাঙা চোরা দোয়েল ফিঙে সংসার
৩
অনন্ত প্রান্তরে দেখেছি, অপরূপা
কী করে তাড়িয়ে বেড়াও ঘুম
জাহাজের খোলে খোলে অবাধ জটলা কেটে
গর্তমুখে এঁকে দাও বালি!
এবারেও এলে না বসন্ত যাপনে,
ফুলগুলো রোজ ঝরেছে নিঃঝুম
শুধু উন্নীত শিশুদলে লিখিয়েছ নাম
লাল কালি মেখে তৃপ্ত হবে বলে!
অনন্ত যৌবনে দেখেছি, অপরূপা
কী করে তাড়িয়ে বেড়াও খেদ
প্রেমিকের কোলে কোলে অবাধ লজ্জা কেটে
গর্তমুখে এঁকে দাও বালি
৪
তোমার সামুদ্রিক পোশাকের সীমানা পেরিয়ে
উড়ছে অবিন্যস্ত পতাকা, দূর দেশের
রণবাদ্যে কেঁপে কেঁপে উঠছে নোঙর
তোমার রাত্রিচরা পোশাকের সীমানা পেরিয়ে
ঝুঁকি নিচ্ছি আমি, অবাধ খোলা মাঠে
দাপিয়ে পুঁতে ফেলা হচ্ছে অথর্ব ঘোড়্-সওয়ার
তোমার রান্নাঘরের পোশাকের সীমানা পেরিয়ে
ভেসে যাচ্ছে মাংসের গন্ধ, বুড়ো ঘোড়া
পুড়ছে সওয়ার সমেত, নিভৃত বিন্যাসে
মানবেন্দ্রের গানের তালে
কেঁপে কেঁপে উঠছ
পোশাকের ভেতরে দাঁড়িয়ে।
হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে
দেখছ নিজেকে,
তুমি সত্যি কি না...
৫
এদিকে এসো অখণ্ডপানে চাও
যেটুকু ধুলোর সম্বল
তুমি, নদী করে দাও
দিয়েছ বিবর রাত্রি মেলেছ ডানা
আমার সত্য ঘিরে ক্ষত---
সাজ,
অলীক কারখানা
দিন তবু রাতদিন
চলে ফিরে যায়
হে প্রিয়তমা
নদীজল
মেলেছ কী ধুলোট উপায়!
সে উপায়ে বালিচর ধুয়ে মুছে কালো
বেসেছিলে নদীজল?
বেসেছিলে ভালো?
Comments