Posts

কবিতা গুচ্ছ

Image
  বোধ কি লাভ এ মুঠি শক্ত করে পরিযায়ী ওড়াউড়ি !  আদৃত রাখি পরিমিত কমুন্ডলে স্মৃতি-সম্বল, গণ্ডুষে গ্রহণ প্রেমের অক্ষর– শাল্মলী তলায়, শিশিরের নির্মম স্নানে, প্রচ্ছদ – ছন্দ হীন !  উদ্বায়ী মেঘের মতো গৃদ্ধকূট পাহাড়ের দিকে দৃষ্টির ভরে যাওয়া,  বীতরাগের বিভাব জ্বেলে শ্রমনের মাঝে অগ্রন্হুিত মর্মকথা শুনি  পিনদ্ধ বোধের ভগবৎ উচ্চারণ। তবে, ও বালিহাঁস !   কি লাভ এ মুঠি শক্ত করে পরিযায়ী ওড়াউড়ি ! দ্বন্দ্ব নিশঃব্দ আলোর পথে  বিকচ বিশ্বাস—দ্বিধাহীন, প্রথাগত আদরের গরিষ্ঠ চুম্বন জাগায় জিজীবিষা,অধি-বাসে নির্মিতি নিলীন। প্রথাহীন ভাবে যখনই ভেবেছি তোমাকে গভীর জলের মতো তৎসম উৎসাহে, সাগরের শীতে একাকী রোদ মাখি বিষাদ বেলায়, কমলিনী সাগ্রহে।  অফুরান ফসলের মাঠ, উতরোল উৎসারে তানপুরা বাজে কলতান সুরে… দধীচির অণিক প্রমার মতো ঋত-স্বর জীমূত জীবনের কথা বলে।  মিছিল থেকে নির্মোক নীল মাছি হয়ে দেখেছি, হেমন্তের কুয়াশার শেষে জুগুপ্সার জুজু-রঙের প্লাবনে ভাসে চির-দ্বন্দ্বের আমাদের এ ঘর। সাধনা দুপুর-শরীর ধুলো উড়ে চলে যায় শুণ্য-সীমার সীমন্তে লোচন নাচ পরাশর পথে আয়ু দীর্ঘ হলে কনক তৃষার জলে,অসু...

একটি কবিতা সিরিজ

Image
  ১| আনুনাসিক প্যানপ্যানানি থেকে অনেক দূরে সরে গেছে জাদু-যান কোনও বাম্পারে আর থামানো যাবে না গ্রামীণ মূকাভিনয় চ্যাপলিন বসে আছে স্টিয়ারিং ধরে বেখেয়াল ভাইরাস হয়ে খেয়ে যায় মগজের দানা অশ্রুগ্রন্থি জাগলিং করে ট্রাফিকের বাড়ি পিচকারি নিয়ে আসে শরতের মেঘ , নার্সিসাস এই প্যাস্টেল-দেশে কবিতা কাফেলা । ২| পাদানিতে পা দিয়ে আছে ভিখারিনীর খিলখিল দু- পয়সা বেশি ঝনঝন করে মনের থালায় ঢালাই রাস্তা চিরে ঢুকে যায় খিড়কি বা সদরে ছুটে যায় পাতিহাঁস চিনা মুরগির দল পুণ্যিপুকুরে সাঁতার কাটে দুপুরের সূর্যটা  সেও চাইছে না আজ বিকেল হোক কানা নদীটি আগলে রাখে অন্ধ ঈশাণ মাঝি । ৩| কাঁচা বাঁশের মাচায় পাবে তাসের দেশ বিবি খেলা ঘোরালে সাহেবের রাগ কাগজের নক্সায় একদিকে সুখ ,তার ওপারে অসুখ কবরেজমশাই সাইকেল নিয়ে আসে তার স্টেথো আজো জানে না হৃদয়ের আশেপাশে কতগুলো ভাঙা হাড় আছে । ৪| পার্থেনিয়ামকে দেখতে মন্দ লাগে না শিয়াল কাঁটার পাশে ফুটে আছে হলুদ শৈশব রূপ দু-ফোঁটা রক্ত ঝরাবে, অরূপ দেবে সুধা এইপথে কাজললতা বিক্রি করে মোহ ভালবাসা কাঁদে যত , কাঁদায় না তার কণাও ৫| যাত্রী জাদুকর হলে গাড়িটিও জাদুঘর ধানের মড়াই থেকে নেমে আসে ধাতব ...

একটি কবিতা সিরিজ

Image
(১) ফেরি করি মিছে গন্ধের শোক। সায়ম ফেরি করি                                                ধ্বংসকাল... বৃথা অভিঘাত ভন্তের যোজনায়। স্থিরচক্ষু ;  শ্রাবণ সন্তাপে স্থির। শাদাপত্র সম্মুখে দেখি,  নাকফুল ঝরে আছে... তাই লিখি। নিশ্চিন্দায় লিখি আলো। গর্ভাকারে ভুল ? এত বর্ষা গেল তুমি, না পেয়েছ মাটি তাপ শ্রীপান্থের, কদমের ঘ্রাণ। বণিকের কাছে যাও— আদি সিংহল জলে পর্ণীপথে... পরমদ্রব্যশিষে সেতু ক’রে যাও সে সময়ে কাঙালিয়া ধন শালপাতাটির মতো চেয়ে আছে ; বুনোশিশু হাতে তুলে নেবে না কখনো ? (২) আমারে দেওয়ার মতো কিছুমাত্র ধনী নও, জানি মোক্ষে কী দিতে পারো কল্পনার দিনকানা মেয়ে ! এত লেখো আশাবাদ, রাতপাখি চরাচরে আঁখিমিলন সুরভিরে লেখো। শ্মশানে ব্যথার ঘাটে আনপক্ষী আনমনে ভাবে, এমনই অথর্ব আমি ! সৎকার শিখিনি এখনও !  আহারে শাবক তোর, অবিশ্বাস পুড়ে যায় যেন— হতভাগ্য দম্পতির শোক উড়ে যায়... আমারে শোকের গাঙ মনান্তরে কলস ভরে দেবে ? দাও গ্রীবা, দাও চঞ্চু, পালকপর্ব দাও— অগ্রদান শিখিনি জী...

ছোট গল্পগুলি

Image
  রবীন্দ্রনাথের হাতেই ছোটগল্পের জন্ম হয়েছিল এই ঐতিহাসিক সত্যের কথা মনে রাখলে স্পষ্ট করে বলা যায়, বাংলা ছোটগল্পের শতবর্ষপূর্তি' তখনো আরদ্ধ হয়নি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন প্রায় গল্প লেখায় শিথিল চেষ্টা চালাছেন, সে সময়ে তিনি গল্পরচনায় আত্মসমর্পণ করেছেন। যদি 'প্রবাসী'তে (১৩৩৮) প্রকাশিত তাঁর 'বাঘ' গল্পটিকে আদি সাহিত্যপ্রতিষ্ঠ গল্প বলে ধরে নিই তবে বলা যায় গল্প লেখক মনোজ বসুর( জন্ম ২৫ জুলাই ১৯০১ খ্রীষ্ট জন্মাব্দ) সাহিত্যিক আবির্ভাব ত্রিশ বছর বয়সে আরদ্ধ হয়েছিল।"  যাই হোক মূলত এগুলি বিষয় নয়। আজ যে চারটি ছোট গল্প সম্মুখে রেখেছি তা নিয়ে আপনাদের পাঠ অভিজ্ঞতার আশায় থাকবে পত্রিকা ও লেখক এক‌ই সঙ্গে। কয়েকটি ভিন্ন স্বাদের ছোট গল্পকে একসাথে রাখা, সম্পাদনার জায়গায় উপস্থাপনা বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবে -এবং'। গল্পগুলি পাঠ করবার জন্য লেখকের নামে ক্লিক করলেই মূল গল্পে পৌঁছে যাওয়া যাবে— প্রথম   মন দিয়ে 'কাজ' শিখলো শিউলি। শিখলো,চুলে তেল দেওয়া চলবে না। ধীরে ধীরে তাতে জট পড়বে। পড়ুক, না পড়লেই ক্ষতি। যত তাড়াতাড়ি পড়ে ততই সুবিধে। সেদিক থেকে নজর সরাতে হবে। আয়েশ করে পান সেজে খ...

একটি কবিতা সিরিজ

Image
  নিসর্গতাড়িত (১) বিষন্নতা, অংশত ঝুঁকে আছে, দূর ঝাউবনে গুলিগোলা চলার পরে বেশ শুনশান রাস্তাটি— একটি পাখি শুধু মেঘের দিকে তাকিয়ে ছিল সামান্য টাকার বিনিময়ে, তাহলে সব বিকিয়ে গেল? আর আমাদের রাস্তা হয়ে গেল ওদের রাস্তা! ইথারে কবেকার পুরনো গান ভেসে চলেছে  সময় এক হাত-পা ভাঙা পাথর,         কোমরে ফিক লাগা সাইটিকা আগুন-ঝড়ে পুড়ছে এতদিনের জমানো ভুল দস্তাবেজ। (২) কালো চশমার ভিতর থেকে দেখা সমুদ্র, ঢেউহীন— ভেসে চলেছে উদ্দেশ্যবিহীন নীল নক্ষত্র, ভ্রষ্ট দেবশিশু দূরে দূরে শোকচাপা ঝাউবন।                 উদ্বেগে হাওয়ায় উড়ে যেতে চায়— কিছু না পাওয়া বাতাস আজ একটানা উড়িয়ে নিয়ে  চলেছে শতছিন্ন পাতা,             দিশেহারা গোঁয়ার পাতাটি কতদূর যাবে?  অন্তহীন ধুলোমাখা রাস্তা                        বারবার ছুটে গেছে নিসর্গতাড়িত। (৩) বাবা মা তখনও ঘুমিয়ে  দাঁড়ের ময়নাও বুঝি ঘাড় গোঁজা অন্ধকারে সিঁড়ি গুলো         ...

উপসংহার থেকে ফিরছি —কবিতা সিরিজ

Image
  (১) মাঝে মাঝে মনে হয়  একদিন বোবা হয়ে যাবো  কোটি কোটি কথা মরে পচে লাশ। লাশের গন্ধ সয়ে গেছে নাকে,  অবচেতনায়  নিজেকে নিজের কাছে বড়ো ভয় লাগে  মাঝে মাঝে মনে হয়  প্রায় দু লক্ষ বছর হলো আমি কাঁদিনি। মনে হয়,  আধ-দামড়া ঝকঝকে এক দিনে ব্যস্ত চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছি আর  গোটা দুনিয়ার অলক্ষ্যে খুঁজে চলেছি একটি নিখুঁত হনন। (২) সেদিন ভোর তিনটেয় নিজের হাতে খুলতে পেরেছি জট  পাঁচ-ফুট-আট এক উপদ্রপ  নাক না ডেকে কীভাবে ঘুমাতে পারে আমি প্রথম দেখছি  দেশলাই আছে। চাদরে ছড়ানো অবিন্যস্ত কিছু চোঁয়া মেটাফোর ছাড়া সেভাবে কোনো ডাইরি নেই  ঘুমে ডুবে মহল্লা। ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম আলো      শুধু একা ছেড়ে যেতে নেই বলে পাহারা দিচ্ছি নিজেকে।                                           (৩) একটি দরজা  বন্ধও নয়, খোলাও নয়। দাঁড়িয়েছি   জৈষ্ঠ্যের সন্ধ্যায় অদ্ভুত হিম। আরেকটু রাতের দিকে  একম...

জুজুতন্ত্রের সমূহ শ্বাপদ এবং হুজ্জতি

Image
  —দেবার্ঘ সেন  কিছুই চমৎকার হচ্ছে না, কিছুই সার্থক হচ্ছে না। কেমন যেন একটা ম্যাদামারা দিন কাটছে আর দীর্ঘ হচ্ছে তালিকা। নিজেকে প্রশ্ন করছি, নিজেকে খুবলে ধরছি, নিজেকে ক্ষত করছি, নিজেকে নিজেই গ্রেপ্তার করছি সময়ের ব্যভিচারে। এসবের মধ্যে কবিতা পুড়ে যাচ্ছে, জন্মাচ্ছে ছাই, সেই ছাই মেখে বসে আছি, ছাই উজ্জ্বল হচ্ছে, আমাকে চিনিয়ে দিচ্ছে অচৈতন্য নাবালিকা কুয়াশায়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমার নিভৃতি, মুক্তি চাইছে আমার শরীর-শরীর দ্বন্দ্ব, মুক্তি আর ছাই শত্রু হয়ে উঠছে পরস্পর, এভাবেই সংঘর্ষ লাগছে, দড়ি টানাটানি করছে অস্তিত্বের সমস্ত প্রহরী, প্রহরীরা প্রশাসনিক ক্যারাটে খেলছে, দুর্ধর্ষ গতিতে হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে উড়ে আসছে পেরেক, সব চক্রান্তের শিকড়ে রয়েছে বাতাস, বাতাসের হাতে হাতুড়ি, হাতু্ড়ি দিয়ে পেরেক গাঁথছে অনুভূতির মাছি, মাছিরা রাতকানা হলেও দিব্যি ওভারটাইম করছে, এভাবেই আমার অধিকতর কমা বেড়ে যাচ্ছে, তাই এখানে একটা নিরপেক্ষ দাঁড়ির প্রয়োজন। দাঁড়ি দিলাম। প্রয়োজন দেওয়ালে মাথা ঠুকছে, ঠুকতে ঠুকতে চটিয়ে দিচ্ছে দেওয়াল, দেওয়ালের কানে দুল হয়ে ঝুলছে মানুষ, মানুষের গলা। গলার মধ্য দিয়ে আশ্চর্য শিহরণে আমার ভেতর...