শ্রী র জ ত
দিদিমার কথা ভীষণ মনে পড়ে
মাটির মত মমতা ছিল চোখে...
খেজুর গুড়ের সুবাস ছড়িয়ে থাকত তাকে ঘিরে
শাপলা ফুলের ছিপছিপে শাড়িতে চড়ে আগুনখাকির শ্মশানে যেদিন শুয়ে ছিল,
প্রথম ঝিরিঝিরি বৃষ্টি তখন আগত শ্রাবণের।
দাদুকে দেখলাম হাসতে,
সে হাসির অর্থ পার্থিব অভিধানে নেই,
পুঞ্জিভূত মেঘের গায়ে কালোরঙের আর্তনাদ
হাসির গায়ে জল হয়ে কৈবল্য পেয়েছে।
মৃত্যু, কী অপূর্ব তোমার নাম...
কী সহজ তোমার উচ্চারণ
কী আনন্দময় তোমার চেতনা জর্জর মায়া!
আমি চলে যাব,
তুমি চলে যাবে,
বৃদ্ধ কৃষ্ণচূড়ার ফুল নীল হয়ে যাবে বিষে।
কোথায় যে যাব কুয়াশার আচ্ছাদনে নাকি নিউক্লিয়াস কেন্দ্রীয় শরীর মিশে যাবে অস্ত্বিত্বহীন বিপন্ন ওমে তা জানিনা...
তবুও কত প্রণয়ের আকুলতা তোমাকে পাওয়ার...
কী ভীষণ ছুঁয়ে থাকা কল্পিত ঘোর
খেলা করে তবু মানুষের বনে।
ধাতু আগুনে পুড়তে সময় নেয়
মৃত্যু এসে তোমার মলিন চোখে উচ্ছে ফুলের ঘ্রাণ দিয়ে গেল যেদিন
সেদিন জানলাম তুমি অর্ধনগ্ন এক জীর্ণ প্রতিশ্রুতি।
জীবনের দৈর্ঘ্য বেশ কয়েকটি বছর মাত্র,
মৃত্যুর ক্ষয়াটে দিনযাপনেও শৈশবের আঁকিবুঁকি,
সেই ক্ষণিক জীবনে প্রেমের বিলাসিতা আমি চাইনি...
তবুও তুমি ছাতিমের গন্ধ দিলে মনে!
কচুরিপানায় আলতো বেগুনি ফিকে রঙের ফুল ফুটেছে
তোমার প্রেমকে চুবিয়ে নাও মৃত যুবতী,
তোমার প্রেমিক এখনো ক্ষুধিত।
যে বলে শরীর কেবল মোহ মাত্র আমি সেই ভণ্ড তপস্বী নয়...
আমাকে উষ্ণতা দিয়ে পবিত্র করো প্রিয় সম্ভাষণ।
পোড়া শোল মাছের আঁশটে গন্ধে বকুল তলা ছেয়ে গিয়েছে...
আলতা পায়ে নুপুর দুখানি চিতায় জ্বলছেনা...
প্রেমের ছোঁয়ায়? নাকি ধাতু আগুনে পুড়তে সময় নেয়?
আমাকে মুক্তি দিয়ে যাও,
আমাকে ঈশ্র দিয়ে যাও একটা...
যাকে সমর্পণ করে হাত পা গুটিয়ে সিগারেটের ধোঁয়ায় বাকি জীবনটা কাটাতে পারি,
নতুবা প্রেত হয়ে গভীর রাতে ওপারের অসমাপ্ত গল্প বলে যাও।
নুপুর দুখানি চিতায় জ্বলছেনা,
সে কি প্রেমের ছোঁয়ায়? নাকি ধাতু আগুনে পুড়তে সময় নেয়?
তাই এখনো হয়তোবা আমি
ধূসর কাটাধানের অকাল মঞ্জুরী...!

Comments