ঋতুপর্ণা খাটুয়া

 















সাঁকো

চলো তোমায় দিয়ে আসি। অযথা কোনও ভয়
নেই হারাবার, তবু তোমার চলার একটি সহজ
পথ কামনা করি। ভোরে বাসে তুলে, ফিরে এসে
সহজেই ঘুম হতো, অথবা একটু এদিক ওদিক
করে নিজ কাজে মনযোগ দেওয়া যেত। কিন্তু
বাস যে ঘুরপথে যাবে, যতক্ষনে পার্ক সার্কাসে
থামবে তুমি, তার অনেক আগেই, হেস্টিংসে
নেমে ভিক্টোরিয়ার থ মেরে থাকা পরীর পাশ
দিয়ে ট্যাক্সি ছুটিয়ে আমরা শিয়ালদায় উড়ে যাব।
ময়দানে, রেসকোর্সে ছড়িয়ে পড়েছে হলুদ ফুল,
তুমি ট্যাক্সির জানালায় তাকিয়ে বললে রাধাচূড়া —
জানতে বড্ড ইচ্ছে হয়, কারে যে শুধাই, অভিসার
শেষে, বাড়ির অদূরে কৃষ্ণ কি এগিয়ে দিয়ে
যেতেন রাধারে? কারে জিগাই! তুমি জান?
জান না বোধহয়! কৃষ্ণের চোখে আমি হেস্টিংস
থেকে শিয়ালদার একটি নমনীয় সাঁকো দেখি।




ইচ্ছেগাঁও

পাহাড়, তার কোনও ঘর নেই অথবা ছিল—
সেই ঘরে তার প্রিয়জনের ছবি ছিল বলে, ওতে ধুলো ভরেরেখে
চাবি বন্ধ করে, পাহাড় বেরিয়ে গেছে। বসন্তের মতো নির্জনতা
পাহাড়ে আসেনি। তবে শীতের নির্জনতাও কম নয়।
পাইন ফার দেবদারু সকলেই আত্মমগ্ন এবং শহুরে ফুলবাবু সেজে দাঁড়িয়ে।
দেশি মদের নেশা কিংবা তারও বেশি নেশা করে
পাহাড় পড়েছিল খাদের পাশে চিৎপটাং হয়ে, তা অন্যকথা,
যে, আমার মতো মনভোলানির পাল্লায় পড়ে পাহাড় এখন সংসার করছে।
কালও তো বাজার থেকে আধাপচা স্কোয়াশ এনে, ব্যাপক ঝাড় খেয়েছিল।

Comments

আরও পড়ুন

মনোজ চৌধুরী

নবীন সরকার

শ্রী র জ ত

ভবানী বিশ্বাস

শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়

মেহবুব গায়েন

অনিন্দ্য সরকার

কবিতা—জয়াশিস ঘোষ